ভারতীয় উপমহাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার লীলাভূমি। এর অফুরন্ত সম্পদ এবং ঐশ্বর্য যুগে যুগে বিদেশিদের আকৃষ্ট করেছে। শক, হুন, মুঘল, পাঠান, তুর্কিরা যেমন এসেছে, তেমনি এসেছে পর্তুগিজ, দিনেমার, ওলন্দাজ, ফরাসি ও ইংরেজ বণিকরা। তবে এসব ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে ইংরেজরা ছিল কূটবুদ্ধিতে সবার থেকে এগিয়ে। এ দেশীয় শাসকদের প্রাসাদ ষড়যন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে পলাশীর প্রান্তরে নামমাত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বণিকবেশী ইংরেজরা হয়ে বসে এদেশের ভাগ্যনির্মাতা।
১৭৫৭ সালে সংঘটিত পলাশীর যুদ্ধ উপমহাদেশে মর্মান্তিক ঘটনাসমূহের মাঝে অন্যতম। এ যুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।
প্রথমত, পলাশীর যুদ্ধের ফলে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজের পতন ঘটলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।
দ্বিতীয়ত, পলাশীর যুদ্ধান্তে মীরজাফর আলী ইংরেজদের তাঁবেদাররূপে নতুন নবাবের স্থলাভিষিক্ত হন এবং বাংলার রাজনীতিতে ইংরেজদের যখন তখন হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত হয়।
তৃতীয়ত, পলাশীর যুদ্ধের পর এদেশে ব্রিটিশ সার্বভৌমত্ব স্থাপিত না হলেও তারা নতুন নবাবের নিকট থেকে নগদ পৌনে এক কোটি টাকা এবং চব্বিশ পরগনার বিশাল জমিদারি লাভ করে।
চতুর্থত, এ যুদ্ধের ফলে ইংরেজরা এদেশে একচেটিয়া বাণিজ্যিক অধিকার লাভ করে এবং দেশীয় বণিকদের সমাধি রচিত হয়।
পঞ্চমত, পলাশীর যুদ্ধে বিজয়ের ফলে ইংরেজগণ বাংলাসহ দাক্ষিণাত্যে প্রভাব বিস্তার করে ফরাসি বণিকদের বিতাড়িত করে এবং একচেটিয়াভাবে উপমহাদেশের সম্পদ আহরণ করে অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির অধিকারী হয়।
ষষ্ঠত, পলাশীর যুদ্ধান্তে ইংরেজদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পেল্পে তারা নবাব স্রষ্টার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় এবং নবাবির বিনিময়ে মীরজাফরের নিকট থেকে একমাত্র ক্লাইভ অনেক অর্থ লাভ করে। পরিশেষে ইংরেজরা ১৭৬৪ সালে মীর কাশিমের সম্মিলিত বাহিনীকে বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত করে উপমহাদেশে অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির অধিকারী হয়।
সম্রাট ফররুখশিয়ারের ফরমান ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল কেন ?
(অনুধাবন)আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?